খুলনায় এনসিপি নেতা মোতালেব শিকদার গুলিবিদ্ধ, অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক,
২২ ডিসেম্বর ২০২৫
খুলনায় প্রকাশ্য দিবালোকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক শীর্ষ নেতাকে গুলি করার ঘটনা ঘটেছে। গুলিবিদ্ধ নেতার নাম মোতালেব শিকদার। তিনি এনসিপি-এর খুলনা বিভাগীয় প্রধান এবং দলটির শ্রমিক সংগঠন 'জাতীয় শ্রমিক শক্তি'র কেন্দ্রীয় সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। আজ সোমবার দুপুরে নগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন।
ঘটনার বিবরণ
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আজ (২২ ডিসেম্বর) দুপুর আনুমানিক পৌনে ১২টার দিকে মোতালেব শিকদার নগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকার বেসরকারি গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় অতর্কিতভাবে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলিটি সরাসরি তার মাথায় বিদ্ধ হয় এবং তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। গুলির শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
শারীরিক অবস্থা
ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (খুমেক) নিয়ে যান। হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মোতালেব শিকদারের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। মাথায় গুলি লাগার কারণে তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। বর্তমানে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং সিটি স্ক্যানসহ প্রয়োজনীয় উন্নত চিকিৎসার প্রস্তুতি চলছে। চিকিৎসকরা এখনই তার বেঁচে থাকার বিষয়ে নিশ্চিত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
প্রেক্ষাপট ও উদ্বেগ
সাম্প্রতিক সময়ে এনসিপি নেতাদের ওপর হামলার এটি দ্বিতীয় বড় ঘটনা। এর মাত্র ১০ দিন আগে, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং এনসিপি সমর্থিত সম্ভাব্য প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই খুলনায় দলের বিভাগীয় প্রধানের ওপর এমন প্রাণঘাতী হামলা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ও ভীতির সঞ্চার করেছে।
প্রশাসনের পদক্ষেপ
খবর পেয়ে সোনাডাঙ্গা মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত হামলাকারীদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, তারা আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করছে এবং জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু হয়েছে।
দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং তারা অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।

No comments