ফেনীতে রেললাইনের পাশে ঝোপ থেকে জজকোর্ট কর্মকর্তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার: হত্যা নাকি আত্মহত্যা?
নিজস্ব প্রতিবেদক, ফেনী । ২২ ডিসেম্বর ২০২৫, সোমবার
ফেনী সদর উপজেলার ফতেহপুর রেলওয়ে ওভারপাস সংলগ্ন নির্জন ঝোপের ভেতর থেকে এনামুল হক (৫৫) নামের এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত এনামুল হক ফেনী জজকোর্টের ১ম যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সেরেস্তাদার (প্রশাসনিক কর্মকর্তা) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আদালতের একজন সিনিয়র কর্মকর্তার এমন রহস্যজনক মৃত্যুতে আদালত পাড়া ও স্থানীয় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
পারিবারিক ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এনামুল হক ফেনী শহরের বারাহিপুর এলাকার মোমেনা মনশনে পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতেন। প্রতিদিনের অভ্যাসমতো আজ সকাল ৭টার দিকে তিনি প্রাতঃভ্রমণের (মর্নিং ওয়াক) কথা বলে বাসা থেকে বের হন। সাধারণত তিনি দ্রুত ফিরে আসলেও আজ দীর্ঘক্ষণ তার কোনো খোঁজ মিলছিল না। তার মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।
বেলা ১১টার দিকে স্থানীয় লোকজন ফতেহপুর রেললাইনের পূর্ব পাশে ঝোপের ভেতর একটি গাছের ডালে গামছা পেঁচানো অবস্থায় এক ব্যক্তিকে ঝুলতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে ফেনী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ নামিয়ে আনে। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি এনামুল হকের বলে শনাক্ত করেন।
নিহতের পরিচয়
নিহত এনামুল হক ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের মাথিয়ারা গ্রামের মৃত ফজলুল হকের ছেলে। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে বিচার বিভাগের প্রশাসনিক দায়িত্বে ছিলেন। সহকর্মীদের মতে, তিনি অত্যন্ত শান্ত ও অমায়িক স্বভাবের মানুষ ছিলেন।
পরিবারের দাবি: এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড
এনামুল হকের মৃত্যুতে তার পরিবারে শোকের মাতম চলছে। নিহতের স্ত্রী ও সন্তানরা দাবি করেছেন, এটি কোনোভাবেই আত্মহত্যা হতে পারে না। নিহতের ছেলে অভিযোগ করে বলেন, "আমার বাবার সাথে কারো কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল না। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মরদেহ গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, যাতে মনে হয় তিনি আত্মহত্যা করেছেন। আমরা প্রশাসনের কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।"
পুলিশের বক্তব্য
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এবং ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে।
ফেনী মডেল থানার পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা মনে হলেও পরিবারের অভিযোগ এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনায় সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ (শ্বাসরোধ নাকি হত্যা) নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে, তবে অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আদালত পাড়ায় শোক
এনামুল হকের আকস্মিক মৃত্যুতে ফেনী জজকোর্টের বিচারক, আইনজীবী ও কর্মচারীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার রহস্য উন্মোচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নিহতের সহকর্মীরা।

No comments