দাগনভূঞায় গভীর রাতে অটোরিকশা চালক সমীর দাসকে হত্যা করে গাড়ি ছিনতাই: পুলিশি তদন্ত জোরদার



নিজস্ব প্রতিবেদক, দাগনভূঞা

জীবিকার তাগিদে গভীর রাতেও অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় ছিলেন চালক সমীর দাস। কিন্তু সেই রাতই যে তার জীবনের শেষ রাত হবে, তা কেউ ভাবেনি। ফেনীর দাগনভূঞা পৌর শহরের গোডাউন রোড এলাকায় গত সোমবার দিবাগত রাতে (আনুমানিক রাত ২:৩০ মিনিট) নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন তিনি। দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে তার উপার্জনের একমাত্র সম্বল অটোরিকশাটি ছিনতাই করে নিয়ে গেছে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে সমীর দাস যাত্রী পরিবহনের জন্য স্টেশনে অপেক্ষা করছিলেন অথবা রাস্তায় ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, যাত্রীবেশে একদল ছিনতাইকারী তার গাড়িতে ওঠে। রাত আনুমানিক ২:৩০ মিনিটের দিকে তারা তাকে কৌশলে দাগনভূঞা বাজারের অদূরে গোডাউন রোডের ভেতরের নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে সুবিধাজনক অন্ধকার জায়গায় তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে অথবা শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর দুর্বৃত্তরা তার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যায়।

ভোরের দিকে স্থানীয় পথচারীরা রাস্তার পাশে রক্তাক্ত ও নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়।

নিহতের পরিচয় ও পারিবারিক শোক

নিহত সমীর দাস দাগনভূঞা পৌরসভার ফাজিলের ঘাট এলাকার জেলে বাড়ির বাসিন্দা। তিনি অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সন্তান ছিলেন। প্রতিদিন অটোরিকশা চালিয়ে যা আয় হতো, তা দিয়েই তার সংসার চলত। তার এই অকাল মৃত্যুতে পরিবারটি এখন সম্পূর্ণ দিশেহারা। স্বজনদের আহাজারিতে ফাজিলের ঘাট এলাকায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। পরিবারের দাবি, যারা সমীরকে হত্যা করেছে, তাদের যেন দ্রুত গ্রেপ্তার করে ফাঁসি দেওয়া হয়।

পুলিশের জোরালো তৎপরতা

খবর পেয়ে দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহের চেষ্টা করছে। সুরতহাল রিপোর্ট তৈরির পর নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

দাগনভূঞা থানার ওসি জানান, "এটি একটি নির্মম হত্যাকাণ্ড। প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে, অটোরিকশা ছিনতাই করাই ছিল খুনিদের মূল উদ্দেশ্য। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ এবং তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছি। ঘটনার তদন্ত ও ময়নাতদন্তের কাজ চলমান রয়েছে। খুব শীঘ্রই জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।"

শ্রমিক ও এলাকাবাসীর ক্ষোভ

সমীর দাসের হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় অটোরিকশা চালকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। চালকরা জানান, গোডাউন রোডসহ আশপাশের কিছু এলাকা রাতে নির্জন হয়ে পড়ে, ফলে সেখানে নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকে। তারা প্রশাসনের কাছে রাতের বেলা পুলিশি টহল জোরদার করার এবং সমীর দাসের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

No comments

Powered by Blogger.