ভোটের মাঠে নিশ্চিত পরাজয় জেনেই কি ষড়যন্ত্র? দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যুতে অপপ্রচার ও আইনি চ্যালেঞ্জের কড়া জবাব আউয়াল মিন্টুর



নিজস্ব প্রতিবেদক | 
শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি ২০২৬

ফেনী-৩ (দাগনভূঞা-সোনাগাজী) আসনে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনীতির মাঠ এখন উত্তপ্ত। বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টুর আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা এবার ভিন্ন কৌশলে মাঠে নেমেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভোটের মাঠে নিশ্চিত পরাজয় আঁচ করতে পেরে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. ফখরুদ্দিন মানিক শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আউয়াল মিন্টুর মনোনয়নপত্র বাতিলের আপিল করেছেন। তবে এসব আইনি চ্যালেঞ্জ ও অপপ্রচারকে ‘ষড়যন্ত্র’ বলে উড়িয়ে দিয়ে কড়া জবাব দিয়েছেন আব্দুল আউয়াল মিন্টু।

আইনি বৈধতা বনাম পরাজয়ের ভীতি

নির্বাচনী প্রচারণায় আব্দুল আউয়াল মিন্টুর পক্ষে সৃষ্ট গণজোয়ারে ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রতিপক্ষ মহল দ্বৈত নাগরিকত্বের পুরনো ইস্যু সামনে এনেছে। জামায়াত প্রার্থীর আপিলে অভিযোগ করা হয়েছে, আব্দুল আউয়াল মিন্টু নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রমাণ দেননি। অথচ আউয়াল মিন্টুর আইনজীবীরা দ্ব্যর্থহীনভাবে জানিয়েছেন, গত ৯ ডিসেম্বর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব সারেন্ডার করেছেন এবং তার স্বপক্ষে যাবতীয় দালিলিক প্রমাণ রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া আছে।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা যেখানে পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই শেষে আউয়াল মিন্টুর মনোনয়ন সম্পূর্ণ বৈধ ঘোষণা করেছিলেন, সেখানে নতুন করে ইসিতে একই বিষয়ে অভিযোগ তোলাকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ ও ‘সময়ক্ষেপণের কৌশল’ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

মিন্টুর স্পষ্ট বক্তব্য

নির্বাচনী প্রচারণার সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, "আমার দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলছেন, তারা মূলত নির্বাচনে নিশ্চিত পরাজয় জেনেই এসব অপপ্রচার চালাচ্ছেন। আমি নির্বাচন কমিশনের সমস্ত নিয়ম-কানুন ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই প্রার্থী হয়েছি। যদি কোনো আইনি বাধা থাকত, তবে কমিশন আমার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করত না।"

তিনি আরও বলেন, "জীবিকার প্রয়োজনে অনেকেই বিদেশে থাকেন, কিন্তু আমার শিকড় এই বাংলাদেশের মাটিতে। আমি এই দেশের সন্তান, দেশের মানুষের সেবা করাই আমার মূল লক্ষ্য। কোনো কাগজ বা পাসপোর্ট দিয়ে দেশপ্রেম মাপা যায় না।"

জনজোয়ার রুখতে ‘দেউলিয়া রাজনীতি’

দাগনভূঞা ও সোনাগাজীর সাধারণ ভোটাররা মনে করছেন, আব্দুল আউয়াল মিন্টুর উন্নয়নমুখী রাজনীতি ও ক্লিন ইমেজের কাছে জামায়াত প্রার্থী ডা. ফখরুদ্দিন মানিক অনেকটাই ম্লান হয়ে পড়েছেন। ব্যালট বিপ্লবে কুলিয়ে উঠতে না পেরেই এখন আইনি জটিলতা সৃষ্টি করে মাঠ ফাঁকা করার পায়তারা চলছে। স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মীমাংসিত একটি বিষয়কে নতুন করে সামনে আনাকে ‘দেউলিয়া রাজনীতি’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

মিন্টু সমর্থক এক প্রবীণ নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেই নির্বাচনে এসেছেন। এখন যারা এসব পুরোনো কাসুন্দি ঘাঁটছেন, তারা আসলে জনগণের ভোটে নয়, বরং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জিততে চান।"

শেষ কথা

আব্দুল আউয়াল মিন্টুর অবস্থান ফেনী-৩ আসনে এতটাই সুসংহত যে, তাকে নির্বাচনের বাইরে রাখা ছাড়া প্রতিপক্ষের জয়ের কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। বিএনপি নেতাকর্মীরা শতভাগ আশাবাদী, নির্বাচন কমিশন এই ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আপিল খারিজ করে দেবে।

দাগনভূঞার এক ভোটার দৃঢ়কণ্ঠে বলেন, "মামলা বা আপিল করে এই জনস্রোত আটকানো যাবে না। আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি ব্যালটেই সব ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেওয়া হবে।"

No comments

Powered by Blogger.