জাপান সফর নিয়ে মো. তারেক রহমানকে কুরুচিপূর্ণ ট্রল: নেপথ্যে জুলাইয়ের বীরকে খাটো করার অপচেষ্টা ও সাইবার বটবাহিনীর নোংরা রাজনীতি
বিশেষ প্রতিবেদক, ঢাকা:
প্রধানমন্ত্রীর উচ্চপর্যায়ের জাপান সফরকে কেন্দ্র করে একটি চিহ্নিত রাজনৈতিক মহলের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিষোদ্গার ও কুরুচিপূর্ণ প্রচারণাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে এই রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিদলে ছাত্র-জনতার জুলাই অভ্যুত্থানের সামনের সারির লড়াকু সৈনিক ও ‘আমজনতার দল’-এর সাধারণ সম্পাদক মো. তারেক রহমানের অন্তর্ভুক্তিকে ঘিরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সাইবার আক্রমণ চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিরোধীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, “সরকারের রুচি এত খারাপ যে আম তারেককে নিয়ে বিদেশ সফরে যেতে হলো।” এমনকি একজন মাটিঘেঁষা রাজপথের কর্মীকে নিচু দেখানোর হীন উদ্দেশ্যে “তিনি কাটা চামচ দিয়ে খেতে পারেন না”—এমন কুরুচিপূর্ণ ও নিম্নমানের ট্রলও ছড়ানো হচ্ছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সচেতন নাগরিক সমাজের মতে, এই কুরুচিপূর্ণ ট্রল কেবল শিষ্টাচারহীনতাই নয়, বরং নিজেদের রাজনৈতিক ভণ্ডামি ও অপরাধের মুখোশ উন্মোচিত হওয়ার তীব্র ভয় থেকেই সুসংগঠিতভাবে এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
সমালোচনা সহ্য না হলেই ‘বটবাহিনীর’ আক্রমণ: খতিব থেকে তারেক রহমান
অনুসন্ধানে দেখা যায়, এই চিহ্নিত গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে যারাই কথা বলেন বা তাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে আঙুল তোলেন, তাদের বিরুদ্ধেই লেলিয়ে দেওয়া হয় পেইড সাইবার বটবাহিনী। তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তাদের পক্ষে কথা বললে মুহূর্তেই সাধারণ মানুষ ‘বড় মাওলানা’ কিংবা ‘মহান নেতা’ বনে যায়; আর তাদের দ্বিমুখী নীতির সমালোচনা করলেই তাকে ‘সবচেয়ে নিকৃষ্ট শত্রু’ বানিয়ে নোংরা ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হয়।
অতি সম্প্রতি জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সম্মানিত খতিবের বিরুদ্ধে এই একই সাইবার চক্র যেভাবে বিষোদ্গার, মিথ্যাচার ও চরিত্র হননের চেষ্টা চালিয়েছিল, তা জাতি প্রত্যক্ষ করেছে। আমজনতার তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে দাঁড়িয়ে এই মহলের ভণ্ডামি, রাজনৈতিক সুবিধাবাদ ও ভুল পদক্ষেপগুলোর বিরুদ্ধে স্পষ্টভাষী অবস্থান নেওয়ায় এবার তাঁর বিরুদ্ধে সাইবার বটবাহিনীকে মাঠে নামানো হয়েছে।
জুলাইয়ের রক্তে যার ত্যাগ, তাকে নিয়েই বিলাসীদের গাত্রদাহ
যারা আজ সোফায় বসে চামচ-কালচার ও কথিত আভিজাত্যের বয়ান আওড়াচ্ছেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অগ্নিগর্ভ সময়ে তারা কোথায় ছিলেন—সে প্রশ্ন তুলেছেন জুলাই যোদ্ধারা।
রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, মো. তারেক রহমান কোনো ড্রয়িংরুমের নেতা নন। তিনি ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু করে ফ্যাসিবাদের পতন আন্দোলনের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত সৈনিক। ২০২৪-এর রক্তক্ষয়ী জুলাই বিপ্লবে তিনি ছিলেন রাজপথের সম্মুখ সারির লড়াকু সংগঠক। বুলেট আর টিয়ারগ্যাসের মুখে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে ব্যারিকেড গড়ে তোলায় তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের রোষানলে পড়েন তিনি।
গত বছরের ২২ জুলাই রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা নজরদারিতে তাকে বেআইনিভাবে তুলে নিয়ে গুম ও আটক করা হয়। এরপর ৩ আগস্ট—যখন বিপ্লব চূড়ান্ত রূপ নিচ্ছে—ঠিক তখনই স্বৈরাচারের পুলিশ তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়ে অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়। চরম নির্যাতনের মুখেও তিনি আপস করেননি। জুলাইয়ের রক্তে পাওয়া নতুন বাংলাদেশে রাজপথের সেই রক্ত ও ত্যাগের মূল্যায়নে একজন বিপ্লবী যোদ্ধাকে যখন রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিদলে রাখা হয়, তখন সুবিধাবাদী মহলের গা-জ্বালা হওয়াটাই স্বাভাবিক বলে মন্তব্য করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
চাঁদাবাজিমুক্ত রাজনীতি ও ব্যক্তিগত সততার ভয়
বিরোধীদের আরেকটি বড় অস্বস্তির জায়গা হলো তারেক রহমানের সততা ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি। বাংলাদেশের প্রচলিত রাজনীতিতে যখন দখলবাজি, চাঁদাবাজি, ফুটপাত দখল আর টেন্ডারবাজির ছড়াছড়ি, সেখানে মো. তারেক রহমান সম্পূর্ণ বিপরীত স্রোতের মানুষ। তিনি কখনো চাঁদাবাজি কিংবা দুর্নীতির আশ্রয় নেননি; নিজের বৈধ ব্যবসা পরিচালনা করে এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভালোবাসাকে পুঁজি করে স্বচ্ছভাবে দল চালান।
যারা রাজনীতিকে রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার এবং চাঁদাবাজির হাতিয়ার বানিয়েছে, তাদের কাছে একজন সৎ, চরিত্রবান ও মাটি থেকে উঠে আসা আপসহীন নেতা রাজনৈতিক অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি।
জনমতের বার্তা: দেশপ্রেম চামচে নয়, ত্যাগে মাপা হয়
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই কুরুচিপূর্ণ ট্রলের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সাধারণ নাগরিক ও নেটিজেনরা লিখছেন, দেশপ্রেম ও নেতৃত্ব কাটা চামচে স্যুপ খাওয়ার মধ্যে নয়, বরং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা আর স্বৈরাচারের বুলেটের মুখে বুক পেতে দেওয়ার মধ্যে নিহিত।
বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশি কায়দা-কানুনের বাহাদুরি দেখিয়ে রাজপথের রক্তভেজা ত্যাগকে আড়াল করা যাবে না। জুলাই বিপ্লবের চেতনা ধারণকারী তরুণ প্রজন্ম বটবাহিনীর এই ভণ্ডামির মুখোশ চিনে ফেলেছে এবং মেকি আভিজাত্যের চেয়ে রাজপথের আত্মত্যাগী নেতৃত্বকেই দেশের সাধারণ মানুষ বেশি মূল্যায়ন করছে।
No comments