নির্বাচন বানচালের গভীর ষড়যন্ত্র? বাংলাদেশে রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ




দৈনিক বার্তা বিশ্বময়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৯ অক্টোবর, ২০২৫:

আসন্ন ফেব্রুয়ারী মাসের জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তাল বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এক নতুন এবং ভয়ঙ্কর দিকে মোড় নিয়েছে। দেশের প্রধান অর্থনৈতিক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় একের পর এক রহস্যজনক ও বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নির্বাচন বানচালের একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। এই ঘটনাগুলো এখন আর নিছক দুর্ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল এবং স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার এই সম্ভাব্য নীলনকশা নিয়ে বিশ্বজুড়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে।

নাশকতার সুস্পষ্ট নিদর্শন?

অল্প কয়েকদিনের ব্যবধানে চালানো এই আক্রমণগুলোর লক্ষ্যবস্তু এবং সময়কাল এক ভয়ংকর পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেয়।

রাজধানীতে আঘাত: গত ১৪ অক্টোবর ঢাকার মিরপুরে একটি রাসায়নিক গুদাম ও পোশাক কারখানায় ভয়াবহ আগুনে ১৬ জনের প্রাণহানি ঘটে।

অর্থনৈতিক কেন্দ্রে হামলা: এর ঠিক দুদিন পরই, ১৬ অক্টোবর, দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (সিইপিজেড) একটি পোশাক কারখানায় আগুন লাগে, যা দেশের রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধাক্কা দেয়।

আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার অবরুদ্ধ: সবচেয়ে উদ্বেগজনক ঘটনাটি ঘটে ১৮ অক্টোবর, যখন দেশের প্রধান বিমানবন্দর, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে আগুন লাগানো হয়। এটি কেবল একটি অগ্নিকাণ্ড নয়, বরং বিশ্বের সাথে বাংলাদেশের যোগাযোগ এবং বাণিজ্যকে বিচ্ছিন্ন করার একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ও পণ্য পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

বিরোধী শিবিরের অভিযোগ: "এটি গণতন্ত্রের উপর হামলা"

বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দলগুলো এই ঘটনাগুলোকে "নির্বাচন বানচালের সুগভীর ষড়যন্ত্র" এবং "গণতন্ত্রের উপর সরাসরি হামলা" হিসেবে অভিহিত করেছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক আন্তর্জাতিক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, "যখন দেশ একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে, ঠিক তখনই একটি মহল দেশকে অস্থিতিশীল করে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করতে চায়। বিমানবন্দরের মতো সর্বোচ্চ সুরক্ষিত একটি জায়গায় আগুন লাগা প্রমাণ করে এর পেছনে শক্তিশালী কোনো গোষ্ঠীর হাত রয়েছে। আমরা বিশ্ববাসীকে জানাতে চাই, বাংলাদেশে গণতন্ত্র আজ হুমকির মুখে।"

অন্যান্য বিরোধী নেতারাও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার জন্যই এই ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে।

সরকারের প্রতিক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই পরিস্থিতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে দেখছে বলে জানিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "দেশের স্থিতিশীলতা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো ষড়যন্ত্র কঠোর হাতে দমন করা হবে। আন্তর্জাতিক মানের তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনা হবে।"

এদিকে, বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বাংলাদেশের পরিস্থিতির উপর সতর্ক দৃষ্টি রাখছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পশ্চিমা কূটনীতিক জানান, "নির্বাচনের আগে এ ধরনের সহিংসতা ও নাশকতার ঘটনাগুলো একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। আমরা সকল পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সম্মান জানানোর আহ্বান জানাচ্ছি।"

ভবিষ্যৎ কোন পথে?

ফেব্রুয়ারীর নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক আকাশ ততই মেঘাচ্ছন্ন হচ্ছে। এই ধারাবাহিক অগ্নিকাণ্ড কি নিছকই দুর্ঘটনা, নাকি একটি অশুভ শক্তি নির্বাচনকে বানচাল করে বাংলাদেশকে এক গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে—এই প্রশ্নের উত্তরই এখন নির্ধারণ করে দেবে দেশটির ভবিষ্যৎ। সমগ্র বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে, গণতন্ত্রের এই অগ্নিপরীক্ষায় বাংলাদেশ উত্তীর্ণ হতে পারে কি না, তা দেখার জন্য। 

No comments

Powered by Blogger.