নাশকতার আশঙ্কায় দেশজুড়ে পুলিশের সর্বোচ্চ সতর্কতা, কেপিআই ঘিরে নিরাপত্তা বলয়
নাশকতার আশঙ্কায় দেশজুড়ে পুলিশের সর্বোচ্চ সতর্কতা, কেপিআই ঘিরে নিরাপত্তা বলয়
নিজস্ব প্রতিবেদক, দৈনিক বার্তা
১৯ অক্টোবর, ২০২৫
আসন্ন ফেব্রুয়ারী মাসের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এবং দেশজুড়ে একের পর এক রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডের পর সৃষ্ট উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে নাশকতার সুনির্দিষ্ট আশঙ্কায় বাংলাদেশ পুলিশের ইউনিটকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে শনিবার গভীর রাতে এই জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়, যা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
বিশেষ করে, দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বা 'কি পয়েন্ট ইনস্টলেশন' (কেপিআই) লক্ষ্য করে অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার একটি ষড়যন্ত্র চলছে—এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
জরুরি নির্দেশনার নেপথ্যে
রাজধানীর মিরপুরে রাসায়নিক গুদাম, চট্টগ্রামের ইপিজেডের পোশাক কারখানা এবং সর্বশেষ দেশের প্রধান প্রবেশদ্বার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের মতো একটি সর্বোচ্চ সুরক্ষিত এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখছে না। পুলিশ সদর দপ্তরের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, "এই ঘটনাগুলোর ধরন, সময় এবং লক্ষ্যবস্তু বিশ্লেষণ করে আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে যে, এটি একটি পরিকল্পিত নাশকতার অংশ। নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করা এবং একটি ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করাই এর মূল উদ্দেশ্য।"
এই প্রেক্ষাপটে, সম্ভাব্য নতুন হামলা প্রতিরোধ করতে এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল।
মাঠ পর্যায়ে পুলিশের কার্যক্রম
সদর দপ্তরের নির্দেশনা পাওয়ার সাথে সাথেই দেশজুড়ে পুলিশের দৃশ্যমান এবং অদৃশ্যমান তৎপরতা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। মাঠ পর্যায়ে যে সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে:
কেপিআই ঘিরে নিরাপত্তা বলয়: দেশের ৫৮৭টি কেপিআইভুক্ত স্থাপনা, যেমন—বিমানবন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্র, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ভবন, কারাগার, এবং অন্যান্য সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানের চারপাশে কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। এসব স্থানে পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানোর পাশাপাশি প্রবেশ ও প্রস্থানে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
সার্বক্ষণিক টহল ও চেকপোস্ট: শহরাঞ্চলের প্রধান সড়ক এবং সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে সার্বক্ষণিক পুলিশি টহল চলছে। এছাড়া, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে আকস্মিক চেকপোস্ট বসিয়ে সন্দেহভাজন যানবাহন ও ব্যক্তিদের তল্লাশি করা হচ্ছে।
গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি: নাশকতার পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করতে সাইবার পেট্রোলিংসহ গোয়েন্দা নজরদারি বহুমাত্রায় বাড়ানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব রটনাকারী এবং উস্কানিদাতাদের শনাক্ত করতেও কাজ করছে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট।
কুইক রেসপন্স টিম প্রস্তুত: যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট, যেমন সোয়াট (ঝডঅঞ) এবং বিভিন্ন মেট্রোপলিটন পুলিশের কুইক রেসপন্স টিমকে (ছজঞ) সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় রাখা হয়েছে।
জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে পুলিশের এই আকস্মিক ও ব্যাপক উপস্থিতি সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। অনেকেই নিরাপত্তা জোরদারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং এতে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তবে, চেকপোস্ট এবং তল্লাশির কারণে সাধারণ মানুষের চলাচলে কিছুটা বিঘ্ন ঘটায় কেউ কেউ ভোগান্তির কথাও বলছেন।

No comments