জামায়াত এই দেশের জন্য একটি অভিশাপ": নাহিদের বিস্ফোরক স্ট্যাটাসে তোলপাড়
বিশেষ প্রতিনিধি,
দৈনিক বার্তা বিশ্বময়
১৯ অক্টোবর, ২০২৫
আসন্ন ফেব্রুয়ারী মাসের জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে যখন রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নাশকতার আশঙ্কা বিরাজ করছে, ঠিক তখনই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী'কে লক্ষ্য করে এক যুবলীগ নেতার বিস্ফোরক ফেসবুক স্ট্যাটাস রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এইচ এম রেজাউল করিম নাহিদ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে জামায়াতকে "অভিশাপ" এবং "পাকিস্তানের প্রেতাত্মা" হিসেবে অভিহিত করে দলটির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
শনিবার রাতে পোস্ট করা এই স্ট্যাটাসটি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় এবং আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
নাহিদের স্ট্যাটাসে যা ছিল:
এইচ এম রেজাউল করিম নাহিদ তার ফেসবুক পোস্টে জামায়াতে ইসলামীর অতীত এবং বর্তমান কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি লেখেন:
"জামায়াত নামক সংগঠনটি এই দেশের জন্য একটি অভিশাপ। একাত্তরে তারা যেমন এদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে গণহত্যা ও ধর্ষণে পাকিস্তানি হানাদারদের সহায়তা করেছিল, তেমনি আজও তারা পাকিস্তানের প্রেতাত্মা হিসেবে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে যে নাশকতামূলক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে, এর পেছনেও জামায়াত-শিবিরের হাত রয়েছে বলে আমি বিশ্বাস করি।"
তিনি আরও যোগ করেন, "এই অপশক্তিকে আর এক মুহূর্তও ছাড় দেওয়া উচিত নয়। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে হলে জামায়াতের রাজনীতি চিরতরে নিষিদ্ধ করতে হবে। যে সকল নেতা বা দল এদের সাথে আঁতাত করার চেষ্টা করবে, அவர்களுக்கும் বিচারের আওতায় আনা উচিত।"
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য:
নাহিদের এই স্ট্যাটাসটি এমন এক সময়ে এলো যখন দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ধারাবাহিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বিরোধী দলগুলোর দিকে নাশকতার অভিযোগের আঙুল তুলেছে সরকারি দল। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীকে প্রায়শই এ ধরনের অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ী করা হয়ে থাকে।
যুবলীগের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার কাছ থেকে এমন সরাসরি এবং আক্রমণাত্মক বক্তব্যকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। তারা বলছেন, এটি একদিকে যেমন জামায়াতের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের কঠোর অবস্থানের বহিঃপ্রকাশ, তেমনি দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করার একটি কৌশলও হতে পারে।
প্রতিক্রিয়া:
নাহিদের এই স্ট্যাটাসের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের অসংখ্য নেতাকর্মী তার বক্তব্যকে সমর্থন করে জামায়াতের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারা নাহিদের সাহসিকতার প্রশংসাও করেন।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী বা তাদের সহযোগী কোনো সংগঠনের পক্ষ থেকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে, দলটির সমর্থক হিসেবে পরিচিত বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে এই স্ট্যাটাসের সমালোচনা করে পাল্টা পোস্ট দিতে দেখা গেছে।
সার্বিকভাবে, যুবলীগ নেতা নাহিদের এই বিস্ফোরক মন্তব্য দেশের চলমান উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে, যা আসন্ন দিনগুলোতে রাজনীতিকে আরও সংঘাতময় করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

No comments