হাতিয়ায় চর দখল নিয়ে দুই বাহিনীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, দুই প্রধানসহ নিহত ৫
নিজস্ব প্রতিবেদক, নোয়াখালী
আপডেট: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ । সন্ধ্যা ০৭:৪৫
নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় মেঘনা বক্ষে জেগে ওঠা চরের আধিপত্য বিস্তার ও খাসজমি দখলকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ চলা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও গোলাগুলিতে উভয় পক্ষের প্রধানসহ অন্তত ৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ ও আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সুখচর ইউনিয়নের দুর্গম ‘জাগলার চরে’ এ ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে দুই বাহিনীর প্রধান বা ‘লিডার’ রয়েছেন বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
নিহতদের পরিচয়
সংঘর্ষে নিহতদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন:
১. সামছুদ্দিন ওরফে কোপা সামছু: সুখচর ইউনিয়নের জাসু উদ্দিনের ছেলে এবং ‘সামছু বাহিনী’র প্রধান।
২. মোবারক হোসেন: নিহত সামছুদ্দিনের ছেলে।
৩. আলাউদ্দিন (৪০): চর আমানউল্যাহ গ্রামের মহিউদ্দিনের ছেলে এবং প্রতিপক্ষ ‘আলাউদ্দিন বাহিনী’র প্রধান।
বাকি দুইজনের নাম-পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, তারাও সংঘর্ষে লিপ্ত বাহিনীর সদস্য। নিহত আলাউদ্দিন হাসপাতালে নেওয়ার পথে এবং বাকিরা ঘটনাস্থলেই মারা যান।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সুখচর ইউনিয়ন সংলগ্ন মেঘনা নদীতে সম্প্রতি ‘জাগলার চর’ নামে একটি বিশাল চর জেগে ওঠে। ওই চরের খাসজমির নিয়ন্ত্রণ, জেলেদের থেকে চাঁদা আদায় এবং সাধারণ মানুষের কাছে জমির পজিশন বিক্রি নিয়ে সামছুদ্দিন গ্রুপ ও আলাউদ্দিন গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।
মঙ্গলবার সকালে আলাউদ্দিন গ্রুপের লোকজন চরের দখল নিতে গেলে সামছুদ্দিন গ্রুপের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা এ সংঘর্ষে চরের মাটি রক্তে রঞ্জিত হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “সকাল থেকেই চরে গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছিল। চরের নিয়ন্ত্রণ যার হাতে থাকে, সে-ই জেলেদের থেকে চাঁদা তোলে। এই টাকার লোভেই আজ ৫টি প্রাণ গেল।”
পুলিশের বক্তব্য
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম ৫ জন নিহতের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ, কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে ৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং একজনকে হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত ঘোষণা করা হয়। চরটি দুর্গম হওয়ায় অভিযানে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান শুরু হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি
একই ঘটনায় ৫ জন নিহতের খবরে পুরো হাতিয়া জুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে সুখচর ও নলচিরা এলাকার মানুষের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা, কারণ আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

No comments