তারেক রহমানের ভোটার হওয়া নিয়ে ‘বট বাহিনী’র দৌড়ঝাঁপ এবং ‘অল্প বিদ্যা ভয়ংকর’-এর বাস্তব প্রমাণ
বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা । ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে যখন সারাদেশের মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে, ঠিক তখনই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একদল ‘অতি-উৎসাহী’ ও ‘অল্প শিক্ষিত’ তথাকথিত অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট বা ‘বট বাহিনী’র আবির্ভাব ঘটেছে। কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ও আইনের জ্ঞান ছাড়াই এরা স্রেফ ভিউ আর লাইকের আশায় প্রচার করছে— “তারেক রহমান আজ ভোটার হয়ে গেছেন!”
বাস্তবতা হলো, এই শ্রেণিটি জানে না যে ভোটার তালিকা আইন এবং নির্বাচন কমিশনের (EC) একটি নিজস্ব এবং কঠোর আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। প্রবাদেই আছে— ‘অল্প বিদ্যা ভয়ংকর’। এদের কর্মকাণ্ড দেখলে এই প্রবাদটিকেই আজকের দিনের সবচেয়ে বড় সত্য বলে মনে হয়।
গুজব বনাম বাস্তবতা
ফেসবুক ও ইউটিউবে ভুঁইফোড় কিছু পেজ থেকে ছড়ানো হচ্ছে যে, তারেক রহমান গোপনে বা হুট করে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে সব কাজ শেষ করে ফেলেছেন। কেউ কেউ আবার ফটোশপে এডিট করা ছবি দিয়ে দাবি করছেন, “স্মার্ট কার্ড হাতে পেলেন দেশনায়ক”।
অথচ বাস্তবতা হলো, ভোটার হওয়া কোনো মুদি দোকান থেকে সিম কার্ড কেনার মতো বিষয় নয়। একজন হাই-প্রোফাইল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, যিনি দীর্ঘ ১৭ বছর প্রবাসে ছিলেন, তার ভোটার হওয়ার প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু ধাপ রয়েছে।
আইনের যে ধারায় তিনি আবেদন করেছেন (যা মূর্খরা জানে না)
সামাজিক মাধ্যমের এই ‘অল্প বিদ্যা ভয়ংকর’ বাহিনী জানেই না যে, জনাব তারেক রহমান কোনো চোরাগুপ্তা পথে নয়, বরং দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই ভোটার হওয়ার আবেদন করেছেন।
তারেক রহমান মূলত ‘ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯’ (Electoral Rolls Act, 2009)-এর বিধি
আইন অনুযায়ী, তফসিল ঘোষণার পরেও বিশেষ যৌক্তিক কারণে (যেমন: প্রবাস থেকে প্রত্যাবর্তন) নির্বাচন কমিশন চাইলে কাউকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ দিতে পারে। তিনি সেই আইনি সুবিধাই গ্রহণ করেছেন। অথচ ফেসবুকে গুজব রটনাকারীরা ‘আইন’ বা ‘ধারা’র তোয়াক্কা না করে মনগড়া গল্প ফেঁদে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে।
মূর্খতার চূড়ান্ত প্রদর্শনী
যেই ছেলেটি জানে না ‘তফসিল’ আর ‘ভোটার তালিকা হালনাগাদ’-এর পার্থক্য কী, সেও আজ ফেসবুকে সাংবাদিক সেজে ব্রেকিং নিউজ দিচ্ছে। এরা বোঝে না যে, একটি ভুয়া তথ্য বা গুজব দলের ভাবমূর্তি এবং নেতার আইনি প্রক্রিয়ার জন্য কতটা ক্ষতিকর হতে পারে। এই গুজব রটনাকারীরা মূলত আবেগকে পুঁজি করে সস্তা জনপ্রিয়তা পেতে চায়, যা সাংবাদিকতার নীতিমালার চরম লঙ্ঘন।
সচেতন হওয়ার সময়
দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থকদের বোঝা উচিত, তারেক রহমানের মতো নেতার যেকোনো পদক্ষেপ হবে প্রকাশ্য, রাজকীয় এবং আইনসম্মত। চিপা-চাপা দিয়ে লুকিয়ে ভোটার হওয়ার কোনো প্রয়োজন তার নেই। যেদিন তিনি এনআইডি পাবেন, সেদিন তা হবে জাতীয় সংবাদ।
তাই, ‘অল্প বিদ্যা ভয়ংকর’—এই প্রবচন মেনে ওইসব অশিক্ষিত বট বাহিনীর গুজবে কান না দিয়ে, দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে মূলধারার গণমাধ্যম এবং দলীয় মুখপাত্রের অফিশিয়াল ঘোষণার ওপর আস্থা রাখাই শ্রেয়।
.jpg)
No comments